rss

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০০৮

বিশ্বনাগরিক

আমাদের স্বপ্নগুলো এখন পেশাদার স্বপ্নকারিগররা দেখে;
তারপর নির্মান শেষ হলে বহুজাতিক কোম্পানী থেকে
আড়ৎদার হয়ে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে।
আমাদের স্বপ্নগুলো এখন কিনতে পারা যায় যত খুশি,
দোকানে সাজানো থাকে আকর্ষণীয় মোড়কে।
যার যার সামর্থ্য অনুসারে নগদ মূল্যে কিনে আমরা হাসিমুখে
সব বিজয়ীর ভঙ্গিতে বাড়ি ফিরে আসি।

আমাদের ঘরবাড়ি এখন পেশাদার স্থপতি, নির্মাতারা করে দেয়,
আমরা শুধু কাঁচাপয়সা সরবরাহ করি; চাইলেই নকশার গুণে
কয়েক কাঠা জমি হয়ে উঠে একটুকরো নিউইয়র্ক অথবা ভেনিস।

আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করে দেয় বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল;
বাস্তবায়নের অর্থ ও সুদে আসলে আদায় করে নেয় দরিদ্রের ঘামে ভেজা শ্রমে।
আমরা কাল্পনিক সুখের প্রবৃদ্ধিতে বুঁদ হয়ে থাকি।

ভিনদেশে পরাগায়ন শেষে আমাদের ফসলের বীজ এখন
কৃষকের হাতে হাতে পৌছে ট্রাকে, মালবাহী ট্রেনে করে।
আমাদের মাঠ এখন উচ্চফলনশীল উন্নয়নের জোয়ারে
উর্বরতা হারিয়ে সর্বগ্রাসী ক্ষুধা নিয়ে কৃত্রিম সার গিলতে থাকে,
আমরা দারুণ কষ্টে মাঠের ক্ষুধা মিটিয়ে সোনা রঙা ধানে গোলা ভরি।
আমাদের গোলার ধানে পরবর্তী বছরে আর শস্য গজায় না,
আমরা অপেক্ষা করতে থাকি বীজ বেচা কাবলিওয়ালাদের পথ চেয়ে।

আমাদের প্রেম এখন ভীষণ রকম যৌনগন্ধী!
টিভিতে, রেডিওতে, পত্রিকায়, হাজারো বিজ্ঞাপনে আমাদের
প্রেমের কলা-কৌশল শেখানো হয় নিয়মিত;
যেন এর আগে এই দেশে প্রেম ছিলোনা! ভুখা নাঙা মানুষ
বহুজাতিক কোম্পানী আসার আগে প্রেম করতে জানতো না!
আমরা প্রেমের ছড়াছড়িতে ডুবে যাই মুঠোফোনে।
হাঁটতে হাঁটতে প্রেম করার অভ্যাস করি, খেতে খেতে প্রেম করার অভ্যাস করি,
ঘুমাতে ঘুমাতেও প্রেম করার অভ্যাস করি,
ভাবে ভঙ্গিমায় আমরা আন্তর্জাতিক মানের প্রেমিক হয়ে উঠি।

আমাদের সংস্কৃতি নতুন নতুন পাঠ্যাভ্যাসে
সুশোভিত হয় শপিং মলে, রেস্তোরায়, মঞ্চে, গানে, নাটকে, বক্তৃতায়।
আমরা ভুলে যাই আমাদের অনেক সমৃদ্ধ স্বনির্ভর অতীত ছিলো;
গেঁয়ো গন্ধ ঝেড়ে ফেলে ধীরে ধীরে আমরা বিশ্বনাগরিক হয়ে উঠি।



- - -
মাইজদী, নোয়াখালী
৯ মার্চ, ২০০৮

ফেইসবুকে যোগ করুন

সাম্প্রতিক লেখা

সাম্প্রতিক মন্তব্য

আর্কাইভ