মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০০৯

এবার তবে ঘুমাতে যাই

______________________________________________
এবার তবে ঘুমাতে যাই
রাত পেরুলেই আর এক ভোর
ভোর কাটলেই অফিসঘর
বিকেল বেলায় এদিক ওদিক
ঘুরে ফিরে কাটিয়ে দিলেই আর এক সাঁঝ
তামাক সঙ্গে ফুরাবে মিনিট দুইশ' পাঁচ।

এবার তবে ঘুমাতে যাই
অসাড় মন এপাশ ওপাশ
এভাবেই তবে ঘুমাতে যাই
রাত পেরুলেই আর এক ভোর...

.........................
মাইজদী, নোয়াখালী
নভেম্বর ৩, ২০০৯

___________________________________

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০০৯

থ্যালাসেমিয়া

______________________________________________

জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ। সকালেও এটা জানতাম না। ব্লগে চোখ বুলিয়ে এক পোস্ট থেকে জানলাম। কাকতাল হলো, আজ সকালেই এনসিটিএফ'র এক শিশু সদস্যের ভাইকে রক্ত দিলাম। ওর ভাইয়ের বয়স ৫ এর মতো। জন্ম সূত্রেই থ্যালাসেমিয়া। উইকিপিডিয়াতে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য পেলাম:
একটি বংশগত রক্তের রোগ। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেনস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। থ্যালাসেমিয়া দুইটি প্রধান ধরনের হতে পারে: আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বেটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণভাবে আলফা থ্যালাসেমিয়া বেটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়াবিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে বেটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি; এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমত চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
বিশ্বে বেটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। আলফা থ্যালাসেমিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সর্বত্র এবং কখনও কখনও ভূমধ্যসাগরীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের লোকদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ লক্ষ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।



ওর আরেকটা বোনেরও থ্যালাসেমিয়া। ক্লাস ৫ এ পড়ে। প্রতি ১৫ দিন পর পর এক ব্যাগ করে দুই জনকেই রক্ত দিতে হয়। ১৫ দিন পর পর দুই ব্যাগ রক্ত জোগাড় করা যে একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কতটা বিড়ম্বনার এবং খরুচে, সেটা জেনে মনটা খারাপ হলো। স্বেচ্ছায় রক্তদাতা পাওয়া গেলেও রক্ত পরিসঞ্চালন করতে প্রায় হাজার খানেক খরচ হয়। সেই সাথে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকার ঔষধ তো আছেই। এভাবেই হয়তো বাকি জীবন দিয়ে যেতে হবে। গত বছরই ওর আরেকটা বোনকে একমাসের মধ্যে রক্ত না দেয়ায় মারা যায়।

ক্যান্সারের মত এই রোগেরও এখনো কার্যকর চিকিৎসা নেই বলতে গেলে। শুনলাম আমেরিকাতে নাকি চিকিৎসা সম্ভব। তবে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়। বাংলাদেশের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে এটা অসম্ভব। যেখানে ওইপরিবারের দুইজন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত।

স্রেফ এক সপ্তাহ যুদ্ধ বন্ধ রাখলেই নাকি সেই খরচের টাকা দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত শিশুকে এক বছর ফ্রি খাওয়ানো যায়। টাকাটা সমস্ত জটিল রোগের গবেষণা করে প্রতিকারও হয়তো আবিস্কার করা সম্ভব। হায়, সেই পৃথিবী কি কখনো তৈরি হবে? এত এত শিশু যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মারা যাচ্ছে যুদ্ধে, তা নিয়ে পৃথিবীর কোন সেভ দ্য চিল্ড্রেন কখনো নূন্যতম বিবৃতিও দিয়েছে? অথচ আমাদের দেশের সেভ দ্য চিল্ড্রেন এর অভাব নেই। সেভ দ্য চিল্ড্রেন ইউকে, সেভ দ্য চিল্ড্রেন ইউএসএ, সেভ দ্য চিল্ড্রেন সুইডেন-ডেনমার্ক, সেভ দ্য চিল্ড্রেন অস্ট্রেলিয়া- সবারই অফিস এবং কার্যক্রম আছে বাংলাদেশে। অথচ যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে, যুদ্ধে শিশু মৃত্যু নিয়ে কখনো তাদের কোন প্রতিবাদ অথবা অন্য কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। না দেশে, না বিদেশে।

কথাটা এই জন্যেই বললাম, কয়েকদিন আগে সেভ দ্য চিল্ড্রেন সুইডেন-ডেনমার্কের এক বিভাগীয় কর্মশালায় চট্টগ্রাম গিয়েই শিশুটির মার সাথে কথা হয়। উনাকে অভিভাবক হিসেবে জেলার প্রতিনিধি ৪জন শিশুর সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। তখনই জানতে পারলাম উনার দুই সন্তানেরই থ্যালাসেমিয়া। যাই হোক, কর্মশালায় আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ ছিলো না। নইলে হয়তো সেভ দ্য চিল্ড্রেন এর কর্মসূচী নিয়ে দু'-চার কথা বলতে পারতাম !


যে কথা বলছিলাম। জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ। স্বেচ্ছায় রক্ত দানে আগ্রহী মানুষ এখনো আছে। যদিও সংখ্যায় তা কমই বলা যায়। রক্ত দিতে ভয় পায় অনেকে। তবে মরণোত্তর চক্ষুদানে আগ্রহী মানুষ একেবারেই নগন্য। আমি নিজেও দেবার মত সাহস অর্জন করতে পারবো কিনা, সন্দিহান! কেমন যেন একটা অস্বস্ত্বিবোধ কাজ করে। হয়তো গোপন কোন সংস্কার কাজ করে ভিতরে! মৃত্যুর পরই তা দেবার কথা কি না! মৃত্যু ব্যাপারটাই কেমন যেন!

তবে স্বেচ্ছায় রক্তদানের আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব। সামান্য সচেতনতাই পারে তা। আমার নিজের কাছে রক্ত দিতে বেশ লাগে। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭ বার দিয়েছি। যেদিন রক্ত দিই, সেদিন ভালো ঘুম হয়। মনে হয় ঘুমের মধ্যে ডুবে যাচ্ছি.... ডুবে যাচ্ছি... বেশ অন্যরকম একটা অনুভূতি!
___________________________________

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০০৯

"ডে লাইট সেভিংস" সিদ্ধান্তটি আসলে কার ?

______________________________________________


গত ১৯ জুন যখন সময় গণনায় ডে লাইট সেভিংস পদ্ধতি চালু হলো দেশে, খটকা লাগলেও সাধুবাদ জানিয়েছিলাম। সাধুবাদ জানিয়েছিলাম কারণ নতুন চিন্তা গ্রহণ করার মানসিকতা সরকার ধারণ করছে তাই। খটকা লেগেছিলো এই কারণে যে যে লাইট সেভিংস এর এর মত টেকনিক্যাল একটা বিষয় বুঝার মত জ্ঞান আমাদের মূর্খ রাজনীতিবিদদের হলো কি করে সেটা ভেবে ! সে যাই হোক। সময় এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়া হলো। কিন্তু এখন কবে আবার আগের সাথে এক ঘন্টা সমন্বয় করে পিছিয়ে দেয়া হবে সে সম্পর্কে সরকারের কোন সুস্পষ্ট ঘোষণা পেলাম না। ইতোমধ্যেই শীতকাল ঘনিয়ে এসেছে। রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ছে। বাস্তবিক কারণে অসুবিধায় পড়ে অফিসাগামী মানুষ, স্কুলগামী শিশুরা সময় এখনো না পাল্টানোর কারণে সরকারের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করছে। অফিসে, ব্লগে, ফেসবুকে প্রচুর মানুষ সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করছে, সরকারকে গালাগালি করছে। কিন্তু তারপরও সরকারের কাছ থেকে কোন সুস্পষ্ট ঘোষণার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তখনই পুরোনো সন্দেহটা আবার ফিরে এলো মনে।

আমাদের সিদ্ধান্তগুলো কি আসলেই আমরা নিই? ডে লাইট সেভিংস এর বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীরাই ঠিকমত বুঝে বলে মনে হলো না। তাহলে ঘড়ির কাটা আগিয়ে দেবার ত্বরিৎ সিদ্ধান্তটাই বা কিভাবে নিলো? কে নিলো?

ডে লাইট সেভিংস চালু হওয়ার পর কম্পিউটারের ঘড়ি সমন্বয় করার জন্য মাইক্রোসফট একটি প্যাচ রিলিজ করে। আমি প্যাচটি ডাউনলোড করে নিই। তাই স্ব্য়ংক্রিয়ভাবে ঘড়ির সময় সিনক্রোনাইজ হয়ে যায়। প্যাচটিতে ঘড়ির কাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার ঠিক করার সময় দেয়া আছে ৩১ ডিসেম্বর। অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় ঘড়ির কাটা ১ ঘন্টা পিছিয়ে নেয়া হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, মাইক্রোসফট এই তথ্য কোত্থেকে পেলো? বাংলাদেশের সময় কখন আগাবে, কখন পিছাবে- মাইক্রোসফটের কাছে এই তথ্য আছে, অথচ সরকারের মন্ত্রীরা জানে না, এর পেছনে রহস্য কী? নাকি রাজনৈতিক সকল সিদ্ধান্তের মত এই সিদ্ধান্তটাও পশ্চিমা প্রভু্দের কাছে থেকেই এসেছে ? দেশের নাগরিকদের এই বিভ্রান্তিতে রাখার পেছনে রহস্যটা কী?

নাকি আমিই বোকার মত বেশি বেশি ভাবছি !!!
___________________________________

 

কপিরাইট © মুকুল | থিমের জন্য কৃতজ্ঞতা | পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনো লেখা বা মন্তব্য আংশিক বা পূর্ণভাবে অন্য কোন ওয়েবসাইট বা মিডিয়াতে প্রকাশ করা যাবে না