rss

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০০৮

খুব ইচ্ছে করে খাতার জমিনে আজ কবিতা আঁকি

ধবধবে সাদা জমিনে কৃষ্ণ রঙের ছোঁয়া,
মূর্ত হয়ে ওঠে বিমূর্ত যত কথামালা।
এক অক্ষর দু'অক্ষর করে পুরো একটা লাইন,
এক লাইন দু'লাইন করে পুরো একটা কবিতার শরীর।
শব্দের নান্দনিক বিন্যাসে মোহনীয় ভাবনা প্রকাশের সৃষ্টিশীল খেলা
মন্ত্রমুগ্ধের মত ব্যস্ত রাখতো অবসরের ক্ষণ!

কখনো প্রজাপতি ভাবনাগুলো বর্ণমালার গায়ে ভর করে
গুণগুণ করে ওঠা কানের কাছে,
কখনো বোঝা না বোঝার মাঝামাঝি অপার্থিব ভাবনা
শব্দের সঙ্গমে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠা নিজের কাছে;
জন্ম দেয় আনকোরা নতুন কবিতার।

কত প্রহর কেটেছে লাল নীল হলুদ পাতায় মায়াভরা চিত্রকল্পের সন্ধানে
মস্তিষ্কের ঝড়ে টালমাটাল দূঃসাহসিক অভিযানে!

খাতায় কাটাকুটি করে অজস্রবার ভুল বানানে
শুদ্ধতার কলম ছোঁয়ানো অথবা কিছু শব্দ এদিক ওদিক করে
নরম কাদামাটির দিয়ে পছন্দসই প্রতিমা গড়ার মত
প্রিয় পংক্তিমালা নির্মানের প্রচেষ্টা হয়ে ওঠে না অনেকদিন।

এখন লেখার জন্য আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম আছে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে,
রয়েছে কাটাকুটির ঝামেলাবিহীন লেখা প্রতিস্থাপনের অবারিত সুযোগ।
'কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং' - এর মত পঁচা হাতের লেখা বলে
ঘনিষ্ট সহপাঠী কিম্বা বন্ধুদের খ্যাঁপানোর সুযোগ নেই।
মন ছুঁয়ে যাওয়া কাব্যিক হস্তাক্ষরের জন্য প্রলুব্ধ হওয়ার মত
একাধিক যান্ত্রিক লিপি সাজানো থাকে প্রতীক হয়ে।
আছে রঙের নাম না জেনে
সারা জীবনে ক্যানভাসে একটিও তুলির আঁচড় না কেটে
প্রতিভাবান শিল্পীর মত আল্পনা আঁকার ডিজিটাল সুবিধা।
আকর্ষণীয় যৌনগন্ধী উপস্থাপনার জন্য আন্তর্জালের ভাঁড়ারে আছে
কোটি কোটি আলো-ছায়ার পরাবাস্তব ফ্রেম।

তবু কেন জানি ইচ্ছে করে নিজের মত করে
জোগাড় করা এক টুকরো পুরোনো কাগজে
কলমের তুলিতে শব্দ জোড়া দিই,
কাটাকুটির খেলায় হঠাৎ আবিস্কারের আনন্দে শৈল্পিক আল্পনা আঁকি,
খসড়া শেষ হলে পর পরিস্কার ধবধবে দুধ রঙা কাগজে
খুব যত্নে করি নির্বাচিত প্রিয় শব্দগুচ্ছের প্রতিস্থাপন।

কি-বোর্ডে দশটি আঙুলের ঠোকাঠুকি নয়,
খুব ইচ্ছে করে, খাতার জমিনে আজ কবিতা আঁকি!



- - -
মাইজদী, নোয়াখালী
২৬ এপ্রিল, ২০০৮


* ছবি সূত্র

ফেইসবুকে যোগ করুন

সাম্প্রতিক লেখা

সাম্প্রতিক মন্তব্য

আর্কাইভ