rss

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০০৯

কাতার ভ্রমণ (পর্ব-১)



হঠাৎ করেই সুযোগটা তৈরি হলো। মাসদুয়েক আগে ভাতিজা ইমেইলে একটা কনফারেন্সের লিঙ্ক পাঠালো (http://ictd2009.org)। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে ১৭-১৯ এপ্রিল, কাতারের দোহায়। আয়োজক Carnegie Mellon বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার। রেজি: ফি ২০০ $ । এছাড়া হোটেলের খরচ, বিমান টিকিটসহ সর্বমোট প্রায় ১৩৫০ $ লাগবে। স্বাভাবিক ভাবেই এই খরচ বহন করা সম্ভব নয়। সাইটে দেখলাম স্কলারশীপের আবেদন করার ব্যবস্থাও আছে। যেহেতু সম্মেলনে আমার কোন পেপার উপস্থাপন করা হবেনা, তাই স্কলারশীপ না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকা সত্ত্বেও আবেদন করলাম। আমাকে অবাক করে সে আবেদন গৃহীতও হলো।


তবুও ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেলো। সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু আমার ভিসা আসার নাম নেই। এদিকে ই-টিকেটও করে ফেলেছি। মানসম্মান যায় যায় অবস্থা! জীবনের প্রথম অন্যদেশে যাওয়া হবে। অথচ অনিশ্চয়তার কারণে ব্লগে কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছিনা। চরম আতঙ্ক জনক পরিস্থিতি!

ফ্লাইট ১৫ তারিখ সকালে। এদিকে ভাতিজা অনেক আগেই ভিসা পেয়ে গেছে। কিন্তু আমারটা কেন জানি আয়োজকরা পাঠাতে পারছেনা। ইমেইলে যোগাযোগ হচ্ছে। আমি আমারব্লগের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিবো। তাই ১৩ তারিখেই ঢাকায় চলে গেলাম। ইমেইলে জানানো হলো ১৩ তারিখের মধ্যে ভিসা পাঠাতে পারবে বলে তারা আশা করছে। কিন্তু ১৪ তারিখ দুপুরের মধ্যেও পাঠাতে পারলো না। অপেক্ষার প্রহর গুনছি। বিকাল ৩টা নাগাদ মেইল পেলাম যে ভিসা হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পেয়ে যাবো।

আমিও খুশি মনে আমারব্লগের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে চলে গেলাম। ভাবছিলাম অনুষ্ঠানের কোন এক ফাঁকে ব্লগারদের জানাবো পরেরদিন সকালে আমার কাতার যাওয়ার খবরটি। অভ্যাসবশত ফাঁকে ফাঁকে মোবাইলে মেইল চেক করছিলাম। ৬টার দিকে দেখি আরেকটা মেইল। আমাকে জানানো হলো, ভিসা তারা এইমুহুর্তে পাঠাতে পারছেনা। আশা করছে পরেরদিন পাঠাতে পারবে। আমি যেন ফ্লাইট পিছিয়ে দিই। মাথাটাই পুরা আউলা হয়ে গেলো। কারণ ফ্লাইট পিছিয়ে দেয়ার সময়টাও পেরিয়ে এসেছি। কী করবো বুঝতেছিলাম না। ব্লগের অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নিয়ে আবার ভাইয়ের বাসায় ফেরত আসলাম। এদিকে যার মাধ্যমে ই-টিকেট করেছিলাম, সে জানালো পরের দিন যেতে না পারলে নাকি যাওয়ার টিকিটটা বাতিল হয়ে যাবে। নতুন টিকিট করতে আরো ২৫ হাজার টাকা লাগবে। আমারতো পুরা মাথায় হাত অবস্থা!

ই-মেইল করলাম আয়োজকদের। আমাকে একটি রিকোয়েস্ট লেটার যেন পাঠানো হয়, তাহলে অনএরাইভাল ভিসা নিতে পারি দোহা এয়ারপোর্ট থেকে। কিন্তু কোন উত্তর নাই।

মন খারাপ করে ঘুমাতে গেলাম। নিশ্চিত যে পরের দিন আমি যেতে পারছিনা। ভোররাতে ভাতিজাকে এয়ারপোর্টে দিয়ে আসার জন্য জেগে মেইল চেক করে দেখি, একটা রিকোয়েস্ট লেটার পাঠিয়েছে ওরা। তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে আমিও গেলাম এয়ারপোর্ট। ইমিগ্রেশনে ঝামেলা করলো। ভিসা ছাড়া তারা মনে হয় কাউকে যেতে দেয় নাই কখনো! ইমিগ্রেশনের উর্ধ্বতন এক নারী অফিসারকে বুঝিয়ে বলার পর ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র দিলো। কিন্তু কাতার এয়ার লাইনসের চেকিং এর সময় তারা বললো, দোহায় অনএরাইভাল ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। সুতরাং আমাকে ফিরে আসতে হবে। কী আর করা! ভাতিজা, সেই সাথে এয়ারপোর্টে পরিচিত হওয়া আরো দুই জন অংশগ্রহণকারী। তারা চলে গেলো। আমি ফিরে আসলাম বাসায়।

ফেইসবুকে যোগ করুন

সাম্প্রতিক লেখা

সাম্প্রতিক মন্তব্য