rss

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০০৯

কাতার ভ্রমণ (পর্ব-২)

অফলোড হওয়ায় বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সারতে হলো। ইমিগ্রেশনে সাধারণ ডায়রি হলো। ঘন্টাদুয়েক লাগলো সব সেরে বাসায় ফিরতে। তখন প্রায় ১১টা। ১২ টার দিকেই ভিসার স্ক্যান কপি সহ ইমেইল পেলাম। আমি তখনো নিশ্চিত না যে টিকিট রিশিডিউল করা যাবে কিনা। যার মাধ্যমে ই-টিকেট করেছিলাম, সে জানালো আমার টিকিট বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং যেতে হলে নতুন টিকিট করতে হবে। এদিকে বিমানবন্দরে কাতার এয়ারলাইনস এর একজন বললো, ৫০ $ ফি এর বিনিময়ে টিকিট রিশিডিউল করা যাবে।

দুপুরে গেলাম গুলশানে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসে। ৪/৫ টা বুথে তারা সেবা দিচ্ছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর এক বুথে ডাক পড়লো। খুলে বলতেই ভদ্রলোক টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করে দিলেন। যাওয়ার তারিখ ১৫ তারিখের বদলে ১৭ তারিখ, আসার তারিখ ১৯ থেকে ২১ এ পরিবর্তন করে দিলেন। ১৬ তারিখে সব সীট পূর্ণ ছিলো। তা নাহলে পরের দিনই যেতে পারতাম। পুরো কাজটা হলো বিনা ফিতে। বুথের ভদ্রলোক জানালেন, প্রথম বার পরিবর্তন ফ্রি। দ্বিতীয় বার পরিবর্তন করার ফি মাত্র ৩০ $ ।
ভাবলাম, এই জটিলতায় পড়ে একটা লাভ হয়েছে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। নাহলে অভিজ্ঞতাটা অসম্পূর্ণ থেকে যেতো। সব বিপদের মাঝেও মনে হয় কিছু প্রাপ্তি থাকে!

সেই সাথে ট্রাভেল এজেন্টদের ধান্ধাবাজিটাও পরিস্কার হলো। মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে তারা প্রতারণাই করে বিভিন্ন সময়ে। এই শিক্ষাটাও কাজে লাগবে আমার।

তারপর ১৭ তারিখ সকালে খুব ভোরে এয়ারপোর্ট। এবার আত্মবিশ্বাস নিয়েই গেলাম। ভাইয়াকে নিষেধ করলাম এয়ারপোর্ট পৌছে দিতে। ড্রাইভার গাড়ী নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌছে দিলো। ইমিগ্রেশনেও তেমন একটা ঝামেলা হলো না। নির্দিষ্ট সময়েই প্লেন ছাড়লো। প্লেনে পাশের সীটেই পরিচয় হলো এক নোয়াখালীরই লোকের সাথে। ভদ্রলোক রোমে থাকেন। কানেক্টিং ফ্লাইটে যাচ্ছেন। তার সাথে গল্প করতে করতে সময়টা ভালোই কাটলো। জানালার পাশে সীট পেলাম না বলে দূ:খ হলো। ঠিক করলাম ফেরার সময় অনুরোধ করবো জানালার পাশে সীট দিতে। প্রথমবার জড়তার কারণে অনুরোধটা করা হয়নি। বিমানবালা দেখতে সুন্দর হলেও তেমন সুবিধার মনে হলো না। খাবারের সাথে আমাকে পানি দিতেই খেয়াল করলো না। পরে চেয়ে নিতে হয়েছে।
অলৌকিক হাসান ভাই আগেই বলেছিলো, কাতার এয়ারওয়েজে সুরাপানেরও ব্যবস্থা আছে। কিন্তু প্রথমবার বলে কিছুটা জড়তার কারনে মুখ ফুটে চাওয়া হলোনা। তাছাড়া খাবারবহনকারী ট্রেতেও রঙীন পানীয়ের কোন বোতল দেখা গেলোনা। আমিও সংযমী হলাম। ;)

কাতার সময় ১১.৩০ এ প্লেন নামলো। ইমিগ্রেশনের বোরখা পরা নারীটা আমাদের দিকে একবার তাকালোনা পর্যন্ত। যান্ত্রিকভাবে পাসপোর্ট হাতে নিয়েই কম্পিউটারে চেকিং করে সীল মেরে দিলো। সামান্য বাক্য বিনিময়ও হলোনা। এমনকি আমার ভিসার কাগজও দেখলোনা। বুঝলাম যে আমার ভিসা নাম্বার তাদের ডাটাবেসে আছে। ১৫ তারিখে যদি যেতে পারতাম, তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই ভিসা পেয়ে যেতাম মনে হয়!

Merweb Hotel হোটেল থেকে আমাকে রিসিভ করার জন্য গাড়ী থাকার কথা। বেরিয়ে দেখি আমার হোটেলের কেউ নাই। আমি বাইরে গিয়েও উঁকিঝুঁকি মেরে দেখলাম। কেউ নাই। কিছুটা নার্ভাস হয়ে আবার ভেতরে আসলাম। মিনিট পাঁচেক পর দেখলাম ড্রাইভার আমার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে আসলো। আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

শুরুতেই দেখি ট্রাফিস জ্যাম। আমার ধারণা ছিলো শুধু ঢাকাতেই জ্যাম লাগে। এখন দেখি বিদেশেও এই বিরক্তিকর জিনিস আছে! রাস্তার পাশে পাশে খেজুর গাছ। ঢাকাতে রাস্তার পাশে খেজুর গাছ লাগানোর বুদ্ধি যার মাথা থেকে এসেছে, সে সম্ভবত বিদেশ বলতে মধ্যপ্রাচ্যেই গিয়েছিলো!

হোটেলে পৌছে রেজি: করে রুমে জিনিসপত্র রেখেই বেরিয়ে এলাম। এর আগে হোটেল থেকে ৫০ $ ভাঙিয়ে কাতারের রিয়াল করে নিলাম। রেট পেলাম প্রতি ডলার ৩.৪৫ করে। পরে জেনেছি, বাইরে থেকে আরো ভালো রেট পাওয়া যায়। মার্কেট থেকে পরে পেয়েছি ৩.৬০ করে।


বাইরে ট্যাক্সি খুঁজে পেতেই অনেক সময় লাগলো। কাতারে ট্যাক্সি খুবই কম। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সি সার্ভিস চলে। ভাড়া বেশি। প্রাইভেট ট্যাক্সিও আ‌ছে, তবে সেগুলো দেখে চেনা কষ্টকর। কিছুক্ষণ পর একটা ট্যাক্সির দেখা মিললো। দেখি ড্রাইভার বাংলাদেশী, নাম শ্যামল; কুমিল্লায় বাড়ী। ভাবলাম, ভালৈ হলো। বিদেশ বিভূঁয়ে বাঙালী পাশে পেয়ে বুকে বল পেলাম। বাংলায় কথা বলতে বলতে দোহা এডুকেশন সিটি এলাকায় গেলাম। শহরের একটা প্রান্তে ১০-১২টা ভার্সিটি নিয়ে এডুকেশন সিটি তৈরি করা হয়েছে গত কয়েক বছরে। কাতারের আমীরের দ্বিতীয় স্ত্রী'র উদ্যোগে মূলত এই সিটি তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে অবকাঠামো তৈরি করে সব আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাস বসিয়ে দেয়া হয়েছে। বুঝাই যায়, আমীরের লেবাননী স্ত্রীর আমেরিকা প্রীতি প্রবল!

ট্যাক্সি থেকে নেমে পুরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। কোথাও কেউ নেই। ক্যাম্পাসে ২/৪ জন শ্রমিক ছাড়া কারো টিকিটির ও দেখা মিললো না। ভুল যায়গায় আসলাম কিনা ভাবতে ভাবতে প্রধান ভবনের দিকে এগুতে থাকলাম।

ফেইসবুকে যোগ করুন

সাম্প্রতিক লেখা

সাম্প্রতিক মন্তব্য