rss

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০০৯

কাতার ভ্রমণ (পর্ব-৩)

১৭ এপ্রিল ২০০৯, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিন

প্রধান গেটের সামনে আসতেই সেন্সর নিয়ন্ত্রিত কাঁচের দরজা নিজ থেকেই খুলে গেলো। ভিতরে প্রবেশ করতেই লোকজনের আনাগোনা টের পেলাম। আমি আশা করেছিলাম আন্তর্জাতিক সম্মেলন যেহেতু, নিদেনপক্ষে একটা তোরণ হলেও থাকবে। দেশে ছোটখাট অনুষ্ঠানেও সাজগোজের বাহার দেখে এমন ধারণাই তৈরি হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলনে তেমন কিছু না দেখে বেশ অবাক হয়েছিলাম।

ভেতরে রেজিস্ট্রেশন ডেস্কে গিয়ে নিবন্ধন করলাম। ততক্ষণে ২টা বেজে গেছে। লাঞ্চ সেরে ফেলেছে বেশির ভাগ অংশগ্রহকারী। ভাতিজাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করলাম। পেলাম না। এদিকে ক্ষিধেয় পেট মোচড় দিচ্ছে। তাই আগে লাঞ্চ সেরে নিলাম। বুফে লাঞ্চ, নাশতাও বুফে সিস্টেমে। খাবার দাবারের কোন কমতি নেই। আমি খাঁটি স্ট্রবেরি, পাইনঅ্যাপেল, অরেঞ্জের খাঁটি জুস পান করতে করতে ভাবলাম, তেল বেচা টাকা দিয়ে দুনিয়ার সবকিছুই এরা ভোগ করছে। আর দেশে আমরা ম্যাঙ্গো জুসের নামে খাঁটি কুমড়োর জুস খাই!

অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন কর্মশালায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। দেরিতে আসার কারণে সবকিছু বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। এক রুমে উঁকি দিয়ে দেখি বসার জায়গাও নেই। তাই এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করলাম। ক্যাম্পাসের সামনেও ঘুরে আসলাম। তবে রোদের তীব্রতায় চোখ ধাঁধিয়ে যায় তাই বেশি দূর গেলাম না।


একদিকে দেখি অংশগ্রহণকারীদের পেপার প্রদর্শন হচ্ছে। সেখানে কলকাতার একজনের সাথে পরিচয় হরো। তীর্থঙ্কর নাম। বাংলাভাষী পেয়ে ভালৈ লাগলো। তার পেপার অটোমেটেড ব্রেইল সিস্টেম নিয়ে। তার শিক্ষক অনুপম বসুসহ যৌথ উদ্যোগ। তীর্থঙ্করের সাথে কথা বলতে বলতে পরিচয় হরো একজনের সাথে। প্রথমে ভেবেছিলাম ইন্ডিয়ান। আমেরিকান উচ্চারণে ইংরেজী শুনে এশিয়ান চেহারা দেখে তেমনই ধারণা হয়েছিলো। পরিচয় হতে দেখি বাংলাদেশী। নাম ফাহিম হুসেইন।

Carnegie Mellon এর ইনফরেশন সিস্টেম বিষয়ের শিক্ষক। তাঁর নিজেরও একটা পেপার প্রদর্শিত হচ্ছিলো। মজার বিষয়, তাঁর দেশের বাড়ীও নোয়াখালী। ;)

ঘুরতে ঘুরতে ভাতিজার দেখা পেলাম রেজিস্ট্রেশন ডেস্কে। স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বপালন করছে। আমার পালা ছিলো বিকেল ৪টা থেকে ৫.৩০টা। কাজ ছিলো রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা করা, তথ্য সহযোগিতা করা।
"]
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের রেজিস্ট্রেশন ডেস্কে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের রেজিস্ট্রেশন ডেস্কে

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ডি.নেট'র প্রধান ড. অন্যন্য রায়হান, ফরহাদ ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। শহীদ ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। জাপান থেকে এসেছিলো ড. আশির আহমেদ। তার সাথে আলোচনা করতে করতে ব্লগের প্রসঙ্গও আসলো। দেখলাম জ্বীনের বাদশা ভাইকে চিনে উনি। :)

Carnegie Mellon বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের ডিজাইন অসাধারণ! স্থাপত্যশৈলী মুগ্ধ হওয়ার মত। আরাম আয়েশের জন্য দেখলাম শোয়ার ব্যবস্থাও আছে। সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রাম করতে চাইলে বসা অথবা শোয়ার ব্যবস্থাও আছে।

পুরো প্রাঙ্গণ জুড়েই ওয়াইফাই কানেকশন আছে। দু;খ হলো ল্যাপটপটা কেন নিলাম না। আমি ভেবেছিলাম ভাতিজা যেহেতু নিচ্ছে, আমি প্রয়োজনে তারটাই ব্যবহার করবো। তাতে করে বোঝাও কমবে। কিন্তু বাস্তবে আসলে হয় না। নিজের সাথে থাকলে লাইভ ব্লগিং করা যেতো। আরেক গাধামী করেছি ভাতিজার উপর ভরসা করে ক্যামেরাটাও নিই নাই। যেহেতু সে আমার দুদিন আগে গিয়েছে, ফিরে এসেছেও দুদিন আগে, ফলে আমার নিজের ছবি তোলাই হলোনা। এই পর্বগুলোতে ব্যবহৃত ছবির বেশির ভাগই ভাতিজার তোলা।


প্রথম দিনের ডিনার সারতে সারতে রাত ৮.৩০। তারপর সম্মেলনের নির্ধারিত বাসে করে হোটেল ফিরে আসলাম। এর মধ্যে মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম। আমাদের অপেক্ষায় থাকা বাসগুলো সবসময়ই এসি চলছিলো। খালি অবস্থাতেও। ভাবলাম যে দেশে খাবার পানির চেয়ে তেল সস্তা, সেখানেও এরকম হবেই! প্রসঙ্গত, কাতারে খাবার পানির লিটার ১ রিয়াল। আর তেলের লিটার .৭৫ রিয়াল।

হোটেল ফিরে ভাবলাম শহরটা দেখতে বেরুবো। কিন্তু ক্লান্ত শরীরে আর বেরুতে ইচ্ছে করলো না। তাই পরের দিনের জন্য প্ল্যানটা স্থগিত রেখে ঘুমাতে গেলাম।

ফেইসবুকে যোগ করুন

সাম্প্রতিক লেখা

সাম্প্রতিক মন্তব্য