আমার এত প্রতিভা! আগে বুঝি নাই!

আমি আকাশ ছুঁইনি অনেক দিন,
দু'বছর আগেও নিয়ম করে প্রতি সন্ধ্যায়
অন্তত: একবার আকাশ ছুঁতাম।
আমাদের সম্পর্ক ছিলো বন্ধুত্বপূর্ণ,
সূর্যাস্তের পর আকাশ ছাদের খুব কাছাকাছি চলে আসতো
হাঁটতে হাঁটতে পাশাপাশি দুই বন্ধুর মত আমি
আকাশের হাত ধরে মৃদু ঝাঁকুনি দিতাম।
দু'বছর আগেও দুপুরবেলা রোদ গাঢ় হলে পর
ঘর্মাক্ত গায়ে আকাশকে ডেকে নরম বকুনি দিতাম।
নরম ধমকেই কাজ হতো, আকাশ আমার কথা শুনতো,
কখনো পাঠিয়ে দিতো ছায়ার মত যাযাবর মেঘদল,
কখনো বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলে হামলে পড়তো ঠান্ডা হাওয়া।
উদাসী হাওয়ায় স্বস্তি পেয়ে ফুরফুরে মেজাজে মোল্লার চা দোকানে বসে
এককাপ গরম চা, সাথে সদ্য প্যাকেট ভাঙা তাজা তামাক...
সন্ধ্যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়টাতে আড়াইতলার খোলা বারান্দায়
আকাশের সাথে জমজমাট আড্ডা হতো,
আকাশের বন্ধুরা-- মিল্কিওয়ে, অ্যান্ড্রোমিডা নক্ষত্রপুঞ্জ, আরো যতো খটোমটো
নামের অজানা অচেনা মহাজাগতিক বন্ধুরাও সাথী হতো।
আড্ডার অন্তরঙ্গতায় তোমার কথাও হতো;
আকাশ সবই জানতো--
প্রথম দেখাদেখির সলাজ দৌড়, ফোনে খুনসুটির নানান সূত্র
ধরে হাসি ঠাট্টাও চলতো।
এমনকি কখনো কখনো আকাশ আমাদের সম্মানে উপহার দিতো
তারা খসার দৃশ্য- ভবিষ্যত সুখ কল্পনায় সংস্কারাচ্ছ্ন আমরা
মোনাজাতের ভঙ্গিতে মুখে হাত বুলিয়ে নিতাম।
শত মাইল দূর থেকেও মহাজাগতিক ঘটনাগুলো
দু'জনে মিলে উপভোগ করা যেতো--
যেমন পূর্ণিমা দেখতাম দু'জনে একই সাথে - যদিও মধ্যিখানে একবেলার পথ!
আমি আকাশকে নিয়ে সদ্য লিখিত কোন কবিতা উৎসর্গ
করবো বলে মনে মনে ঠিক করেছিলাম, একদিন তুমুল
আড্ডার ফাঁকে তাকে সে কথা জানিয়েও দিয়েছিলাম।
আমি কথা রাখতে পারিনি, যেমন তুমি রাখোনি;
আকাশকে নিয়ে কোন কবিতা লেখা হয়নি আর।
তুমি চলে যাওয়ার পর গত দু'বছর ধরে
আমি তাই একটিবারও আকাশের মুখোমুখি হইনি।
২ নভেম্বর, ২০০৮
জানালা গলে বখাটে রৌদ্র
আঘাত হানে বিকেলের ঘুমে।
কাশরঙা মেঘ চঞ্চলতা দেখায়
এই আসে এই যায়।
চপলা তরুণীরা হেঁটে যায়
তাদের ইষৎ সলজ্জ গালে চুমু
খেয়ে যায় কনে দেখা আলো;
কি নির্মম সুন্দর হেঁটে যায়!
শরৎ মেঘ কোথায় যায়?
কোথায় হারায়?
তরুণীরা হেঁটে যায়,
তরুণীরা কোথায় যায়?
মাইজদী, নোয়াখালী
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮
আমি যে মানবাধিকারের কথা বলি, সে আমার মহত্ত্ব নয়।
চিন্তাটা খুবই সংকীর্ণ; তুমিই তার সোজাসাপটা লক্ষ্য প্রিয়তমা।
নির্মম পৃথিবীতে তোমার বঞ্চনা আমি সইতে পারবো না।
তাই আমি চাই মানবাধিকার সংবেদনশীল সমাজ।
আমি যে শিশু অধিকারের কথা আওড়াই, তার সাথেও তোমার স্বার্থ জড়িত;
তোমার, মানে আমাদের শিশুকে সুন্দর একটি পৃথিবী উপহার দিতে চাই বলে।
আমি যে সমানাধিকারের কথা বলি, তা কোন লৈঙ্গিক সমতার
চেতনা থেকে নয়-স্রেফ তোমার স্বার্থে।
আমি কি তোমার চেয়ে বেশি পেতে পারি কিছু?
কিভাবে ভালোবাসার সাথে বৈষম্য বসবাস করবে বলো?
আমি তাই সমানাধিকারের কথা বলি, ন্যায্যতার কথা বলি।
আমি যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলি,
সে তোমার জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র চাই বলে। আমার প্রিয়তমাকে
নৈরাজ্যের মাঝে রেখে আমি কি নিশ্চিন্তে ঘুমুতে পারি?
এবার বুঝতে পারছো কেন আমি মহৎ বুলি আওড়াই?
বন্ধুরা যেমনটি ভাবে, আদতে তেমন উদার নই আমি; বলতে পারো চরম ব্যক্তিস্বার্থবাদী।
আমি শুদ্ধ হয়ে ওঠার আপ্রাণ সাধনা করি তোমার কষ্ট চাই না বলে।
সুধীজনের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তুমি চলে যাওয়ার পরও কেন আমি এসব বলে যাই!
কেন ভালোবাসার দায়মুক্ত হয়েও আমার ভেতরে জন্ম নেয় না ক্রুদ্ধ ফ্যাসিস্ট?
তবে কি এখনো, একটি মুহুর্তও তোমায় ভালো না বেসে থাকি না?
মাইজদী, নোয়াখালী
২৯ আগস্ট, ২০০৮
একদিন এক প্রজাপতি ছুঁয়েছিলো আমায়,
কখনো এমন হয়, খুব ছোট্ট ঘটনার মধ্য দিয়ে
নেমে এসো মেয়ে পর্বত শিখর থেকে,
আমি জানতাম না, ভালোবাসা কৃষিকাজের মত সোজা নয়;
ভালোবাসা এক আগ্রাসী যুদ্ধ -
তাতে যুদ্ধনীতি আছে, কূটনীতি আছে।
অভিজ্ঞ সমরবিদের মত পরিকল্পনা সাজাতে হয়
গবেষণা করে বের করতে হয় প্রতিপক্ষের দূর্বলতা,
সামান্য অন্যমনস্কতায় একটু এদিক ওদিক হলেই
দূর্ভেদ্য দূর্গ উড়ে যেতে পারে কামানের গোলায়।
ভালোবাসা টেকাতে হলে আবিস্কার করতে হয় নিত্য নতুন মারণাস্ত্র,
প্রতিপক্ষের চেয়ে কম বিধ্বংসী হলে ময়দানে নামার
আগেই পরাজিত হতে হয় স্নায়ু যুদ্ধে।
অথচ আমি কি না ভেবেছিলাম-
শ্রম ঘাম দিয়ে বীজ বুনলে,
সময় সময় আগাছা নিড়িয়ে দিলে,
মাটির রঙ বুঝে হাট থেকে সার কিনে দিলে অথবা
আরো ভালো হয় জৈব সার দিলে শস্যক্ষেতে
এবং কয়েকবার করে সেচ দিলেই ফসল ফলবে সোনারঙা!
আমি শালার আজন্ম চাষা,
আজও সৈনিক হলাম না!
১৬ জুলাই, ২০০৮
কপিরাইট © মুকুল
টেমপ্লেট তৈরি করেছেন Blog Template 4 U | ব্লগস্পট টিউটোরিয়াল | ব্লগার